আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় সনদের ওপর গণভোট। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হলেও নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ না করা পর্যন্ত বর্তমান অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা নিজ নিজ পদে বহাল থাকবেন।

প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে বলে সরকারের নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন। আইন অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠিত হওয়ার আগপর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার দৈনন্দিন ও অপরিহার্য কাজগুলো বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদই তদারকি করবে।

নিয়ম অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার গেজেট জারি করা হবে। এরপর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। এর মাধ্যমে সংসদ গঠিত হয়। এরপর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোট সংসদ নেতা নির্বাচন করার পর তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি তাকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

কোনো দল বা জোট কমপক্ষে ১৫১টি আসন পেলেই একক বা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার শর্ত পূর্ণ হয়। সাধারণত একক বা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দলের প্রধানকেই সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও বেশি আসনে জয়ী দলকে তখন সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। সে ক্ষেত্রে ওই দলকে অন্য দলের সমর্থন জোগাড় করতে হয়।

নতুন মন্ত্রিসভার দাপ্তরিক কাজ করে থাকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হয়। অতিথিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। রাষ্ট্রপতি প্রথমে সরকারপ্রধানকে শপথ পাঠ করাবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়।

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ নেওয়া পর্যন্ত বর্তমান উপদেষ্টাদের পদে থাকা প্রসঙ্গে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘মন্ত্রিসভা যেদিন হবে, সেদিনই আমাদের কার্যক্রম শেষ। এরপর আমরা চলে যাব।’ প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পেয়েছেন কি না– জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পাইনি। কিন্তু আমি আমার পুরনো অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। প্রসেস কী হবে এটা হয়তো অনেকে জানে না। যেটা আমি জানি, সেটুকু আমি বললাম। এটা অফিসিয়াল বা আনঅফিসিয়াল সেটা বলব না। মন্ত্রিসভা গঠিত হলেই আগের মন্ত্রিসভার বিলুপ্তি।’

সেই প্রসেস হতে তো নির্বাচনের পরে আরও দুই-তিন দিনও সময় লাগতে পারে। সেটা যদি সোম-মঙ্গলবার হয়, তার মানে রবি-সোমবারও কি আপনারা অফিস করবেন– এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রবি-সোমবার যদি আমাকে কেউ চলে যেতে না বলে, তাহলে অবশ্যই অফিস করব।’ ১৫ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট হতে পারে বলেও ধারণা দেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা।